৮। ছোটোবড়ো
এখনো তো বড়ো হয়নি আমি,
ছোটে৷ আছি ছেলেমানুষ বলে ।
দাদার চেয়ে অনেক মস্ত হব
বড়ে। হয়ে বাবার মতে! হোলে ।
দাদ! তখন পড়তে যদি না চায়,
পাখির ছানা পোষে কেবল খাচায়,
তখন তারে এমনি বকে দেব !
বলব, “তুমি চুপটি ক”রে পড়ো ।”
বলব, “তুমি ভারি ছুষ্ট, ছেলে”__
যখন হব বাবার মতো! বড়ো ।
তখন নিয়ে দাদার খাচাখান।
ভালে! ভালো পুষব পাখির ছানা ।
সাড়ে দশট1 যখন যাবে বেজে
নাবার জন্যে করব না তো তাডা।
ছাতা] একটা ঘাড়ে ক’রে নিয়ে
চটি পায়ে বেড়িয়ে আসব পাড়া ।
গুরুমশায় দাওয়ায় এলে পরে
চৌকি এনে দিতে বলব ঘরে 2
তিনি যদি বলেন, “সেলেট কোথা ।
দেরি হচ্ছে, বসে পড়া করো 1৮
আমি বলব “খোকা তো আর নেই,
হয়েছি যে বাবার মতো বড়ে। 1
গুরুমশায় শুনে তখন কণ’বে-_
“বাবুমশায়, আসি এখন তবে ॥”
খেল। করতে নিয়ে যেতে মাঠে
ভুলু যখন আসবে বিকেল বেলা,
শামি তাকে ধমক দিয়ে কব,
“কাজ করছি, গোল কোরো না মেলা |”
রথের দিনে খুব যদি ভিড় হয়,
একলা যাব করব না তো ভয়;
মামা যদি নলেন ছুটে এসে__
“হারিয়ে যাবে আমার কোলে চড়ো
বলব আমি “দেখছ ন1। কি মামা,
হয়েছি যে বাবার মতো বড়ো
দেখে দেখে মাম! বলবে “তাই তো,
খোকা আমার সে-খোকা আর নাই তো ॥
আমি যেদিন প্রথম বড়ে। হব
মা দিনে গঙ্গান্সানের পরে
আসবে যখন খিড়কি ছুয়োর দিয়ে
ভাববে “কেন গোল শুনিনে ঘরে |”
তখন আমি চাবি খুলতে শিখে,
যত ইচ্ছে টাক। দিচ্ছি ঝি-কে,
মা দেখে তাই বলবে তাড়াতাড়ি
“খোক। তোমার খেল। কেমনত্বরো ।
আমি বলব, “মাইনে দিচ্ছি আমি,
হয়েছি-যে বাবার মতো বড়ে।
ফুরোয় যদি টাকা, ফুরোয় খাবার,
যত চাই মা, এনে দেব আবার ॥”
আশ্বিনেতে পুজার ছুটি হবে
মেল। বসবে গাজনতলার হাটে,
বাবার নৌকো কত দূরের থেকে
লাগবে এসে বাবুগঞ্জের ঘাটে ।
বাবা মনে ভাববে সোজা স্থৃজি
খোকা তেমনি খোকা আছে বুঝি,
ছোটো! ছোটে! রঙিন জামা জুতো!
কিনে এনে বলবে আমায় “পরো”
আমি বলব “দাদ পরুক এসে,
আমি এখন তোমার মতো বড়ো ।
দেখছ ন। কি যে-ছোটো। মাপ জামার-_
পরতে গেলে আট হবে-যে আমার ॥
